কনরাড অ্যাঙ্কার

পর্বত আরোহণের জগতের একজন নামকরা ব্যক্তি হলেন কনরাড অ্যাঙ্কার। তিনি হলেন আমেরিকান পর্বতারোহী। পাহাড় নিয়ে খেলা করা অনেকের মধ্যে তিনিও একজন। জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণ থেকে বারবার ফিরে এসেছেন সবার মাঝে। তাঁর এই অকুতোভয় ভ্রমণ তাঁকে দিয়েছে নতুন নতুন অভিজ্ঞতার গল্প। তিনি একি সাথে পর্বতারোহী, রক ক্লাইম্বার এবং লেখক। তিনি তাঁর লেখনির মাধ্যমে তার অভিজ্ঞতা সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার চেষ্টা করেছেন।

কনরাড অ্যাঙ্কার ১৯৬২ সালের ২৭ই নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। কনরাডরা ছিলেন চার ভাই। তিনি চার ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। কনরাডের পাহাড় পর্বতের প্রতি ভালবাসা এবং আবেগ তার পিতা-মাতার কাছ থেকেই পেয়েছেন । মন্টানায় বসবাস করে পাহাড়ে উঠবেন না এমনটা তো হতে পারেনা। তাই ছোট বেলা থেকেই পাহাড়ের প্রতি একপ্রকার আবেগ কাজ করে তাঁর মধ্যে। তিনি উটাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেন।

কনরাড ১৯৯৯ সালে জর্জ ম্যালরির মৃত শরীর অনুসন্ধান করার জন্য তৈরি দলের সাথে প্রথম হিমালয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে গিয়ে জর্জ ম্যালরির মৃতদেহ প্রথম আবিষ্কার করেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে কনরাড মাউন্ড রেইনিয়ারে পদার্পন করেন। তাঁর পর্বতারোহণের গুরু ছিলেন মগস স্টাম্প। তাঁর সাথে কনরাডের দেখা হয় তারই বিশ্ববিদ্যালয়ে। মগস স্টাম্পের কাছ থেকে পর্বতারোহণের বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারেন কনরাড। আর সে কারণেই পাহাড়ে উঠার ইচ্ছা তার দ্বিগুণ হয়ে যায়। কনরাড যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন তখন তিনি কাঠমিস্ত্রী হিসেবে খণ্ডকালীন চাকরী করতেন। তখন তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু প্রয়াত আলেকস লোয়ের সাথে পরিচয় হয়। এবং তিনি এবং তাঁর বন্ধু পরবর্তী সময়ে হিমালয় এবং অ্যান্টারটিকায় দাপিয়ে বেড়ান।

তিনি ১৯৯৭ সালে অ্যান্টারটিকা, পাকিস্তানের কারাকোরাম এবং ইওসামাইটের এল ক্যাটিটেনে একাই আরোহন করেন। কনরাড সম্পর্কে তাঁর বন্ধু বলেন, ‘কনরাডের জন্য পর্বত হল প্রাকৃতিক ভাবে নিঃশ্বাস নেওয়ার একটা অপরিহার্য জায়গা। যা তাঁর হৃদয় এবং আত্মাকে বেঁধে রাখে।’

কনরাড অ্যাঙ্কার অনেকগুলো পর্বতে প্রথম পদার্পন করেন। যেগুলোতে আগে কেউ আরোহণ করেনি। যেমন: ভারতের শার্ক ফিন মেরু, অ্যান্টারটিকার এলসওয়ার্থের ভিনসন ম্যাসিফ মেরু, অ্যান্টারটিকার রেকেনিভেন পিক, স্নো পেট্রেল ওয়াল, কুইন মাইড ল্যান্ড ইত্যাদি।

এছাড়া তিনি হিমালয়ে তিনবার আরোহণ করেন, একবার কোন অক্সিজেন ছাড়া এবং একবার ফ্রি ক্লাইম্বিং করেন। তিনি একের পর এক পর্বত আরোহন করেন। নতুন নতুন চূড়ায় উঠে তিনি প্রথম মানুষের পদচিহ্নর জানান দিয়ে আসেন। ১৯৮৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কনরাড অনেক পাহাড়ে পদার্পন করেন। তিনি ২০১৬ সালে নেপালের লুনাগ রি (৬,৮৯৫ মিটার) আরোহন করার সময় হৃদ রোগে আক্রান্ত হন। ফলে তিনি সামিট সম্পূর্ণ করতে পারেনি। এই হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে তিনি কোন দিন হার স্বীকার করেননি। তাঁর শরীরে ছিল অসুরের মত শক্তি।

কনরাড অ্যাঙ্কার তাঁর অ্যাডভেঞ্চার জীবন নিয়ে অনেক বই এবং মুভি তৈরি করেছেন। তাঁর কিছু বইয়ের নাম হল: গাম্বিজ অন জার্নি (Gumbies on Gurney) , হান্টারস্ নরথওয়েস্ট ফেইস (Hunter’s Northwest Face), উইথ ইউ ইন স্পিরিট (With You in Spirit) ইত্যাদি। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমা হল: লাইট অফ দ্যা হিমালয়া (Light of the Himalaya), দা ইন্ডলেস নট (The Endless Knot), দ্যা ওয়াইল্ডেস্ট ড্রিম (The Wildest Dream), মেরু (Meru), লুনাগ রি (Lunag Ri) ইত্যাদি।

এছাড়াও তিনি বেশকিছু পুরষ্কার পেয়েছেন। তাঁর জীবনে তিনি যে সাফল্য অর্জন করেছেন তা সচরাচর খুব একটা দেখা যায় না। জীবনকে হাতের মুঠোই নিয়ে কাজ করা মানুষের সংখ্যা হাতে গুণা কয়েকজন। আর এই কয়েকজনের মধ্যে কনরাড অ্যাঙ্কার বিশেষ ভাবে স্থান দখল করে আছেন।

তাঁর বিখ্যাত উক্তি হল–‘Be good, be kind, be happy’

সূত্র:
১. https://en.wikipedia.org/wiki/Conrad_Anker

২. https://www.climbing.com/people/conrad-anker-on-fatherhood-and-looking-forward/

৩. https://www.thenorthface.com/about-us/athletes/conrad-anker.html

তর্জমা: সুরাইয়া বেগম

ফিচার ছবি: উইকিপিডিয়া

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.