প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ

বর্তমানে আমি ফেসবুকের খুব বেশি গ্রুপ পরিচালনায় নাই। আর যে দুই-তিনটা গ্রুপ অথবা পেইজ পরিচালনায় আছি সেগুলাতে খুব বেশি একটা সময়ও দেয়া হয় না। মাঝে মাঝে টুকটাক দেখা হয় সামান্য কিছু কাজ করা হয়, ঐ পর্যন্তই। সলিমুল্লাহ স্যারের গ্রুপ আর পেইজটা কে খুলছিল এখন ঠিক মনে নাই। তবে খুলার দুয়েক বছর পরে মনে হয় রাসেল ভাই অন্য অনেকের সঙ্গে আমাকেও যুক্ত করছিলেন।

যখন আমাকে যুক্ত করা হয়েছিল তখন স্যার অতটা পপুলার হন নাই। বিশেষ করে সাধারণ অথবা আমরা যাঁকে আমজনতা বলি তাঁদের কাছে পরিচিত পান নাই। কিন্তু যাঁদের দরকার তারা ঠিকই খোঁজ খবর রাখতেন। ব্যক্তি বলি আর গ্রুপ বলি দুইটা বিষয়েই পপুলার হইলে একটা সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ এই ভার্চুয়াল জগতে এসে এইটা অনেক বেশি দেখা যায়। এটা টিওবির মতো বিশাল গ্রুপ পরিচালনা করতে গিয়ে দেখা গেছে। গ্রুপ যদি খোলা রাখা হয় তো এক রকম সমস্যা হয় আবার একটু মডারেট বেশি করলে আরেক রকম সমস্যা হয়। এটা ঠিক কোথায় কন্ট্রোল করা যাবে ঠিক বুঝে উঠা যায় না। কিন্তু বাইরে থেকে লোকজন নানারকম খুত ধরতে থাকে। ভাল করলেও খারাপ করলেও।

মনে হয় পুরা সিস্টেমটাতেই বড় একটা সমস্যা। স্যারের গ্রুপ-পেইজ চালাতে গিয়ে দেখা গেছে আমরা চেষ্টা করেছি সব সময় সৎ থাকার জন্য। বিশেষ করে অন্যের কনটেন্ট দেয়ার সময় চেষ্টা করা হইত কপি না করে সরাসরি লিংক শেয়ার দেয়ার জন্য। এবং কোন ভিডিওই আলাদা করে নামিয়ে কাটাকুটি করে দেয়া হইত না। সব সময় চেষ্টা করতাম আমরা পুরা ভিডিওটা দিতে। যাতে আগে পিছের কথা, কোন প্রেক্ষিতে এই বক্তব্য দেয়া হইছে তা যেন বুঝা যায়। এখানে অদ্ভুতভাবে দেখা গেল লোকজন আসলে শর্টকাট বেশি খুঁজে। বড় বড় ভিডিও সবাই খুব বেশি একটা দেখে না। অতটা ধৈর্য্য লোকজনের নাই। আবার অনেক সদস্যর বক্তব্য দেখে মনে হয় তাঁরা যত বড়ই হোক দেখে, স্যারের লেখা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েও। কিন্তু এই সংখ্যাটা খুবই কম।

করোনাকালীন সময়ের পর থেকে স্যার কোন টিভিতে যান নাই। কোন টিভিতে অনলাইনেও খুব একটা যুক্ত ছিলেন না। দুয়েকটা বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অথবা অন্য কয়েকটা প্লাটফর্মে অনলাইনে দুয়েকটা কথা বলেছেন কিন্তু সেটার সংখ্যা হাতে গোনা যাবে ১০ এর বেশি না। কিন্তু গত প্রায় এক বছরে অনলাইনে বিশেষ করে ফেসবুকে স্যার ব্যপক পরিচিত হয়ে গেছেন। যেটাকে আমরা বর্তমান ভার্চুয়াল ভাষায় ভাইরাল বলি এবং এটা হয়েছে বিশেষ একটা শ্রেণির কারণে। একটা গ্রুপের ফলোয়ার হু হু করে বেড়ে গেছে। দেখে মনে হবে ঐটাই স্যারের আসল গ্রুপ। যেহেতু মেম্বার বেশি।

অনেকদিন ধরেই সেই গ্রুপটা দেখলাম, সামান্য বুঝারও চেষ্টা করলাম আসলে সেখানে হইছেটা কি? মোটামুটি একটা জায়গায় উপনীত হওয়া গেল যে ঐ গ্রুপ বা পেইজটা বিশেষ একটা মতাদর্শের বক্তব্য প্রকাশ করে। দেখা গেছে ৫/৭ বছর আগের কোন একটা ভিডিও কেটেকুটে আগেপিছের কথাবার্তা বাদ দিয়ে নিজেদের যতটুকু প্রয়োজন শুধু ততটুকুই রাখছে। নানা রকম বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে নতুন করে। কোত্থেকে ভিডিও নিছে অথবা কার লেখা নিছে কোন উল্লেখ নাই। যেটা স্যারের মতাদর্শের সঙ্গে একদমই যায় না। বিশেষ করে স্যারের লেখা দেখলেই বুঝা যায়, স্যার প্রচুর পরিমাণ রেফারেন্স দিচ্ছেন।

একদিন দেখা গেল স্যারকে নিয়ে বিধান রিবেরু ভাইয়ের একটা স্মৃতিচারণমূলক লেখা কোন নাম উল্লেখ না করেই ঐ গ্রুপে ছাপিয়ে দিয়েছে। বিধান ভাই উষ্মা প্রকাশ করে একটা পোস্ট দিছিলেন এই বিষয়ে।

আমাদের এখানে আবার যাঁরা পেইজ অথবা গ্রুপ পরিচালনা করেন তাঁরা বেশির ভাগই ফেসবুকে কম সময় দেন। তাঁরা সবাই কাজ করতে পছন্দ করেন, পড়ালেখা করতে পছন্দ করেন। অনেকে আছেন স্যারের মতো ফেসবুকও ব্যবহার করা বাদ দিয়ে দিয়েছেন। এর সঙ্গে আছে ঐ নীতি নৈতিকতার বিষয় অন্যের জিনিশ কপি পেস্ট করতেও পছন্দ করেন না। যাঁর যে ক্রেডিট দিতে চান। এই ধরনের দুর্বলতাসহ নীতি নৈতিকতার ধার ধারা নিয়ে সবকিছু মিলিয়েই বর্তমান এই পরিস্থিতে আসছে।

গ্রুপ যখন বড় হয় তখন নানা রকম ফেইক আইডি অদ্ভুত নাম নিয়া গ্রুপে রিকুয়েস্ট আসে। যা টিওবি গ্রুপ চালানোর সময়ই দেখা হয়ে গেছে। আজকে স্যারের গ্রুপে একটা রিকুয়েস্ট আসছে। ঐটা দেখে এই লেখাটা লেখা। আর যেই গ্রুপটা বড় হয়ে গেছে ঐখানকার পোস্ট ভিডিওগুলা দেখলেই বুঝা যাবে গ্রুপটা কারা চালাচ্ছে। যার আইডিওলজির সঙ্গে স্যারের আইডিওলজির সঙ্গে একদমই যায় না।

আজ হঠাৎ করে স্যারের গ্রুপে ‘প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ’ সাহেব গ্রুপে ঢুকার জন্য রিকুয়েস্ট পাঠিয়েছেন। তারপর প্রোফাইল দেখে জানতে পারলাম তিনি তিন দিন আগে ফেসবুকে একাউন্ট খুলেছেন পাশাপাশি পড়াশুনা করতেছেন নোয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

 

পপুলার কিছুর সঙ্গে কাজ করতে গেলে আসলে এই টাইপের বিষয় দেখতেই হবে, দেখে আনন্দ নেয়াটাই মনে হয় আনন্দের।

 

৮ ফাল্গুন ১৪২৭

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.