কম্পিউটার

‘এশিয় শিল্প ও সংস্কৃতি সভা’ ওরফে কাক-এ কাজে ঢুকেছিলাম প্রায় ১৭ বছর আগে। এর আগে গার্মেন্টস, মোবাইলের দোকান, টেইলার, ইলেকট্রিক দোকানে কাজ করলেও কাকে ঢুকার বিষয়টাকে আমি আমার জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট মনে করি। আরেকটা টার্নিং পয়েন্ট তেঁতুলিয়া টেকনাফ সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে অ্যাডভেঞ্চার জগতে আসা।

কাকে ঢুকার পরেই মূলত রাসেল ভাইয়ের হাত ধরে কম্পিউটারের হাতেখড়ি থেকে একটা বড় পরিবর্তন আসে। এই বিষয়গুলা ভাবতে ভাবতেই আজ আবিষ্কার করলাম, এই দীর্ঘ ১৭ বছর কম্পিউটারের সঙ্গে জড়িয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত নিজে কোন কম্পিউটার কিনি নাই। বিষয়টা নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না, এতদিন ধরে কাজ করতেছি অথচ নিজে একটা কম্পিউটার কিনি নাই। অন্যের কম্পিউটার দিয়া এখনো সার্ভাইব করে যাচ্ছি।

কাকের অফিস বন্ধ করে দেয়ার পরে আমি নাখালপাড়ায় চলে যাই আবার, ছোট ভাইয়ের সাথে থাকি। ছোট ভাইয়ের কম্পিউটারই ব্যবহার করতাম। তারপর কাক এক সময় লালমাটিয়া ফিরে আসে, আমিও লালমাটিয়া গিয়ে কাজ করতাম, রাতে নাখালপাড়ায় থাকতাম। এক সময় লালমাটিয়াও ছেড়ে দেয়া হয়, তখন কাকের কম্পিউটার, একটা ফ্যান, একটা চেয়ার আর আমরা ভাত খেতাম যে থালাগুলাতে সেই থালাগুলা আমি নিয়া আসি।

এরপর থেকে কাকের কম্পিউটারই দীর্ঘদিন সঙ্গী ছিল। কাকের কম্পিউটারটা ছিল কোর-টু-ডুয়ের একটা পিসি। ঐটা দিয়াই আমি সব কিছু করতাম। টুকটাক ঝামেলা হইলে নিজেই ঠিকঠাক করার চেষ্টা করেছি। শুধু কুলিং ফ্যান আর পাওয়ার সাপ্লাই ছাড়া কিছু পাল্টাইতে হয় নাই। কাকের পিসি কয়েক বছর চালানোর পরে আর চালানোর অবস্থা ছিল না।

তখন লিমন ভাইয়ের বাসায় নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। লিমন ভাই এক সময় নিজের পিসি আপডেট করলেন। তাঁর পুরানা ডুয়েল-কোর পিসিটা পড়ে ছিল। আমি তখন নতুন পিসি কিনবো কিনবো করে টাকা ম্যানেজ করার চেষ্টা করতেছি। লিমন ভাই বললেন, ‘ডাক্তার সাহেব এইটাই নিয়া যান, যদি চালাইতে পারেন।’ লিমন ভাই আমাকে সব সময় ডাক্তার সাহেব বলেন, কারণ একবার তাঁর সাইকেল ঠিক করে দিয়েছিলাম।

এর পর থেকে এখন পর্যন্ত লিমন ভাইয়ের সেই ডুয়েলকোর পিসিটাই চলতেছে। মাঝখানে তিনবার কুলিং ফ্যান পাল্টাইতে হইছে, একবার পাওয়ার সাপ্লাই, একবার কেসিং। কয়েকদিন আগে ২ জিবি একটা র‌্যাম নষ্ট হয়ে গেলো, অন্য একটা ২ জিবি র‌্যাম দিয়ে কয়েকদিন চালানোর পরে পরশু আরেকটা ৪ জিবি র‌্যাম লাগালাম। মাঝখানে স্পিড বাড়ানোর জন্য আগের হার্ড ডিস্কের পাশাপাশি একটা এসএসডি লাগিয়েছিলাম। তাই স্পিড নিয়া খুব একটা ঝামেলায় পড়তে হয় নাই।

মনিটরের ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। কাকের সিআরটি মনিটর নষ্ট হওয়ার পরে ফেসবুকে একটা পোস্ট দিছিলাম, সঙ্গে সঙ্গে তপন ভাই আর শাহাদাত ভাইয়ের ফোন আরে আমার বাসায় একটা পড়ে আছে এসে নিয়া যাও। শেষ পর্যন্ত তপন ভাইয়েরটা আনছিলাম। অনেকদিন চালানোর পরে তপন ভাইয়েরটাও নষ্ট হয়ে গেল। ফোন দিলাম শাহাদাত ভাইকে, জিজ্ঞাসা করলাম আছে নাকি এখনো আগের মনিটরটা। পেয়ে গেলাম ঐটা, শাহাদাত ভাইয়েরটা নষ্ট হওয়ার পরে সিআরটি থেকে নতুন মনিটরের দুনিয়ায় ঢুকলাম। পিক৬৯ এ মানিক ভাইয়ের একটা মনিটর পড়ে ছিল, ঐটা ৫০০ টাকা দিয়ে ঠিক করিয়ে প্রায় দেড় বছর চালানোর পরে ঐটা নষ্ট হইল। তারপর আবার সেই লিমন ভাইয়ের পুরানা একটা স্কয়ার মনিটর পড়ে ছিল সেটা দিয়ে এখনো কাজ চলতেছে। এখন আমার বাসায় পুরা লিমন ভাইয়ের সেটাপ।

মাঝখানে একটা সামসাংয়ের মনিটর কিনছিলাম কিন্তু ঐটাতে কাজ করা হয় না, পাশে লাগিয়ে রাখছি নাটক, সিনেমা, সিরিয়াল চলে আরেকপাশে লিমন ভাইয়ের পিসিতে কাজ করি।

এর মধ্যে গত বছর বাহার ভাই পরবাসী হওয়ার সময় তাঁর অফিসের অনেক ল্যাপটপ বিক্রি করছিল নিলামে একটা কোম্পানির মাধ্যমে। আমি আগে থেকেই বলে রাখছিলাম আমার জন্য যেন একটা ল্যাপটপ রাখা হয়, এখনো ডুয়েরকোর পিসি চালাই একটু আপডেট হওয়ার দরকার। বাহার ভাই আমার কথা ঠিকই মনে রেখে যাওয়ার আগে কোরআই-৫ এর একটা ল্যাপটপ রেখে গেলেন। এর আগেও বাহার ভাই একটা মোবাইল দিয়ে আমাকে স্মার্ট ফোনের দুনিয়ায় থিতু করে গেছেন।

কিন্তু কিছুদিন ল্যাপটপ চালানোর পর বুঝতে পারলাম, ল্যাপটপটা আমার জন্য না। শুধু জরুরি কাজের জন্য, বাইরে গেলে খুবই কাজে লাগে। আমার দরকার আসলে ডেস্কটপ পিসি, ল্যাপটপ কখনই দৈনন্দিন কাজে আনন্দ দিতে পারে না, শুধু জরুরি কাজেই খুব ভালো সাপোর্ট দেয়ার জন্য পারফেক্ট।

আমার কাজের জন্য আসলে ডেস্কটপ পিসিই উপযোগী।

এই ১৭ বছরের কর্ম জীবনে নিজের জন্য আমি এখনো পূর্ণাঙ্গ কোন কম্পিউটার কিনি নাই।

কি অদ্ভুত ব্যাপার! নিজেরই বিশ্বাস হয় না!

২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

Comments

comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.